মাহফুজা হত্যা দুই গৃহকর্মীর মৃত্যুদণ্ড

Oct 4, 2020 রাজনীতি

 ১ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

হত্যার দায়ে দুই আসামিকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি চুরির জন্য তাদের দুজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়ে গেলে কারাদণ্ড আর প্রযোজ্য হবে না।

বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান তার রায়ের পর্যবেক্ষণে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, “সর্বজন মান্য, মানুষ গড়ার কারিগর, সকলের শ্রদ্ধাভাজন ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষকে এভাবে হত্যাকারী আসামিরা কোনোভাবেই অনুকম্পা পেতে পারে না।”

অধ্যক্ষ মাহফুজার ছেলে সানিয়াত ইসমত অমিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে নিজের বাসায় খুন হন তিনি।

ওই ঘটনায় তার স্বামী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমত কাদির গামা নিউ মার্কেট থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ওই বাসার গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা এবং রুনু বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেয়। পরে স্বপ্না ও রেশমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই স্বপ্না ও রেশমাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন নিউ মার্কেট থানার এসআই আলমগীর হোসেন।

সেখানে বলা হয়, বাসায় থাকা ২০ ভরি সোনা, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করতে আসামিরা মাহফুজাকে নাকে-মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।

যিনি তাদের ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন, সেই রুনু বেগমের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয় অভিযোগপত্রে।

চলতি বছরের শুরুতে মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারক দুই আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *